জাতীয় সংবাদ

সংসদে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন

করোনা মহামারীতে সংসদে উঠলো আরেকটি অনাড়ম্বর বাজেট

অনলাইন ডেস্ক : করোনা মহামারীর মধ্যে গত অর্থ বছরের মত এবারও অনাড়ম্বরপূর্ণ বাজেট উপস্থাপিত হলো জাতীয় সংসদে। বিগত সময়ে বাজেট উপস্থাপনার দিনটিতে সংসদ ভবন জুড়ে জাকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করলেও গত বছরের মতো আজও (৩ জুন) সংসদের চিত্র ছিলো ভিন্ন।

মহামারীর সংক্রমণ এড়াতে সংসদ ভবন এলাকায় প্রবেশে ছিলো কড়াকড়ি। অধিবেশনে চিরচেনা উৎসবের আমেজ ছিল অনুপস্থিত। কভিড-১৯ নেগেটিভ সনদধারী সীমিত সংখ্যক সংসদ সদস্য ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সংসদে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয়েছে। কোন দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয়নি।

বাজেট উপস্থাপনের সময় সচরাচর সংসদ অধিবেশন কক্ষ প্রায় সব সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকলেও বৃহস্পতিবার সংসদে ছিলেন ১৭০ জনের মত আইনপ্রণেতা। অবশ্য গত বছর বাজেট পেশের দিনে এই সংখ্যা ছিলো আরো কম। গত বছর বাজেট উত্থাপনের দিনে ৭৮ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণ নির্ধারিত রোস্টার অনুযায়ী আজ বাজেট পেশের দিনে কভিড-১৯ পরীক্ষায় নেগেটিভ হওয়া ১৩৬ জন সংসদ সদস্য বৈঠকে অংশ নেয়ার কথা ছিলো। অবশ্য পরে এই সংখ্যা আরো কিছু বেড়েছে। সব মিলিয়ে ১৭০ এর উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন না বিরোধী দলীয় রওশন এরশাদ। আগে থেকেই ‍জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যদের অধিবেশনে আসার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিলো। তবে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য অধিবেশনে ছিলেন।

বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর পরনে ছিল গোলাপি পাড়ের অফ হোয়াইট জামদানি। মুখে ছিল গোলাপি রঙের মাস্ক। অর্থমন্ত্রীর মুখে ছিল সার্জিক্যাল মাস্ক।

আর অর্থমন্ত্রী ছিলেন সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবিতে মুজিব কোট পরিহিত। অর্থমন্ত্রীর হাতে ছিল বাদামী রঙের ব্রিফকেস; যাতে নতুন অর্থ বছরের বাজেট প্রস্তাব।

অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল এবার একঘণ্টারও বেশি সময় বাজেট উপস্থাপন করলেও নিজে পাঠ করেছেন সব মিলিয়ে ১৫ মিনিটের মতো। বাকি পুরোটাই তিনি পাওয়ার পয়েন্ট এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল পদ্ধতিতে বাজেট উপস্থাপন করেন। অর্থমন্ত্রীর অনুরোধে তার ১৯২ পৃষ্ঠার বাজেট বক্তব্য পঠিত বলে সংসদে গ্রহণ করা হয়।

জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকেল তিনি বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে এ মন্ত্রিসভার বিশেষ এ বৈঠক শুরু হয়।

‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শিরোনামে এ বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বাংলাদেশের ৫০তম বাজেট এটি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের তৃতীয় বাজেট এটি। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের এটি তৃতীয় বাজেট।

জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট। ইতিহাসের বৃহত্তম এই বাজেটের আকার ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট এটি।

নতুন বাজেটে মোট ব্যয়ের আকার ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এটি মোট জিডিপির ১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। অর্থমন্ত্রীর পেশ করা এই বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ (অনুদানসহ) ২ লাখ ১১ হাজার ১৯১ কোটি টাকা এবং অনুদান ছাড়া ঘাটতি হচ্ছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।

অনুদানসহ ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির ৬ দশমিক এক শতাংশ। আগামী বাজেটে ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ নেওয়া হবে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক খাত থেকে নেওয়া হবে ৯৭ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ খাতের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে নেওয়া হবে ৫ হাজার এক কোটি টাকা। পাশাপাশি ঋণ করার কারণে এর বিপরীতে সুদ পরিশোধ করতে হবে। এ জন্য আগামী অর্থবছরে সুদ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৭ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা।

 

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button