বরিশাল বিভাগের সংবাদ

ভোলায় ইলিশ বেঁচা-কেনার ধুম

এইচ আর সুমন, ভোলা : ভোলার হাটে-বাজারে পথে চারদিকে শুধু ইলিশে সয়লাব জেলার ছোট বড় শতাধিক মাছ ঘাট।  মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের আগমুহুর্তে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের রূপালী জালে সোনালী ইলিশের দেখা মিলেছে।  ইলিশে সয়লাব জেলার ছোট বড় শতাধিক মাছ ঘাট। আর তাই নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিন রাত ইলিশা ধরা আর মোকামে চালান করা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা। এদিকে মেঘনা তেঁতুলিয়া নদীতে কাঙ্খিত ইলিশের দেখা মেলায় জেলেদের মধ্যে যখন খুশির আমেজ বিরাজ করছে। কিন্তু মহাজনের ধার দেনা পরিশোধের আগেই নিষেধাজ্ঞার কারণে হতাশ মৎসজীবীরা।
সরেজমিনে জেলার একাধিক মাছঘাট ঘুরে জানা গেছে, আগামীকাল ১৪ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞার কারণে মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে সব ধরনে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে যাবে । তাই নষ্ট করার মতো সময় নেই ইলিশ শিকারীদের হাতে। জাল টেনে যা পাচ্ছে তা আড়তে রেখে আবার ছুটছে নদীতে।
নিষেধাজ্ঞার আগ মুহুর্তে ইলিশের দেখা মিলেছে ভোলার জেলেদের জালে। সারাবছরের অপেক্ষার যেন কিছুটা অবসান ঘটিয়ে ঘাটগুলোতে ফিরে এসেছে কর্ম ব্যস্ততা। গত কয়েক মাস ধরে যে ঘাটগুলোতে সুনসান নীরবতা ছিল এখন সেখানে জেলে ও পাইকারদের হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে উঠেছে।
ইলিশের দাম বেশী হওয়ায় জেলেরা যেমন লাভবান হচ্ছে তেমনি মৎস্য আড়ৎদারগনও তাদের লোকসান পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু আগামীকাল ১৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযানকে ঘিরে নতুন করে শংকা দেখা দিয়েছে জেলেদের মাঝে।
এ সময় কথা হয় সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের জেলে ইসমাইল মাঝি, খলিল মাঝিসহ ১০-১২ জনের সাথে। তারা জানান, প্রতি বছরেই আকাল কাটিয়ে নদীতে যখন ইলিশ আসতে শুরু করে তখনই নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়। এতে করে তারা ক্ষতির মধ্যেই থেকে যাচ্ছে। তাই অভিযান আরো ১৫ দিন পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানান তারা। সেই সাথে সকল জেলেদেরকে সরকারি সহায়তার চাল দেয়ার দাবিও করেন তারা।
অপরদিকে ইলিশা মাছঘাটের আড়তদার মোঃ শাাহাবুদ্দিন, রুবেল বেপারী ও ইউনুছ মিয়া জানান,  দীর্ঘ দিন নদীতে মাছ না থাকার কারনে ব্যবসায়ীরা জেলেদেরকে লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে বেকার বসে ছিলো। গত কয়েক দিন ধরে নদীতে মাছের দেখা মেলায় কিছুটা ক্ষতি পুসিয়ে নেয়ার আশা ছিলো। কিন্তু ১৪ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান শুরু হলে এবছর লোকসানের মুখে পরতে হবে বলে জানান তারা।
 হবে।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, এ বছর ভোলা জেলায় ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিকটন। মৌসুমের প্রথম ৩ মাসেই ধরা পড়েছে প্রায় ৫৫ হাজার মেট্রিকটন ইলিশ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজাহারুল ইসলাম জানান, এখন প্রজনন মৌসুম। ডিম ছাড়ার জন্য মা ইলিশ সমুদ্র থেকে নদীতে উঠে আসছে। তাই এখন জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে। এ বছর ইলিশ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button