বরিশাল বিভাগের সংবাদরাজনীতির সংবাদ

দক্ষিনের ৮ পৌরসভায় নৌকা জয়ী

টান টান উত্তেজনা মধ্যে শেষ হলো পৌর নির্বাচন

আনিছুর রহমান : চতুর্থ ধাপে বরিশাল বিভাগের ৮ টি পৌরনির্বাচনের সবকটিতেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। তৃতীয় ধাপেবরিশাল জেলার গৌরনদী পৌরসভা নির্বাচনে উৎসব মূখর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে নজীরবিহীন নিরাপত্তায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। পৌর সভার ১৪টি ভোট কেন্দ্রের প্রতিটি কেন্দ্রেই সকাল থেকে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

ঝুঁকিপূর্ন কয়েকটি কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে টান টান উত্তেজনা থাকলে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন শেষ হয়। নৌকার মার্কার মেয়র প্রার্থী মোঃ হারিছুর রহমান তৃতীয় বারের মত বিপুল ভোটের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত হন। মোঃ হারিছুর রহমান ২৩ হাজার ২শত ৭২ ভোট পান এবং বিএনপির জহির সাজ্জাদ হান্নান ৬শত ৭৯ ভোট পান। বরিশালের গৌরনদী পৌর সভা নির্বাচনে তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে শনিবার সকাল থেকেই পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে লাইনে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে হাজার হাজার ভোটারদের। এরমধ্যে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষণীয়। সকাল নয়টার দিকে ৮নং ওয়ার্ডের দিয়াশুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে নৌকার মার্কার প্রার্থী মোঃ হারিছুর রহমান ভোট দেয়ার পর জয়ের ব্যাপারে শতভাগ বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।ঘ পৃষ্ঠা:২ দেখুনঅপরদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী জহির সাজ্জাদ পালরদী মডেল স্কুলে ভোট দিয়ে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। পৌর সভার ১৪টি ভোট কেন্দ্রে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা নিছিদ্র নিরাপত্তা দেন।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে নয়টি ওয়ার্ডে নয়জন ম্যাজিষ্ট্রেট, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ ছিল উৎসবমূখর। স্মরনকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ভোটার উপস্থিতি ছিল। সরেজমিনে গিয়ে পৌর এলাকার ১৪টি ভোট কেন্দ্রের সর্বত্রই শান্তিপূর্ন পরিবেশ দেখা গেছে। কোথায়ও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

বরিশাল সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল আলম বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ প্রত্যখান করে বলেন, নজীর বিহীন সুষ্ঠ, শান্তিপূর্ন ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অপরদিকে ভোলার বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান পৌরসভায় নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বোরহানউদ্দিনে মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগে প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ১০৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মনিরুজ্জামান কবিরুজ্জামান কবির পেয়েছেন ৬৬২ ভোট। এছাড়া অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সালাম পেয়েছেন ২৪৭ ভোট।

অন্যদিকে দৌলতখানে ৫ হাজার ৮০০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকির হোসেন তালুকদার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আনোয়ার হোসেন কাকন পেয়েছেন ৮৩০ ভোট। শনিবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে বোরহানউদ্দিনে সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা মো. শহিদুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দুই উপজেলায় গড়ে ৬০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। নির্বাচনে ৫ মেয়রসহ ৮১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এদিকে দেশের দ্বিতীয় প্রাচীনতম পৌরসভা ঝালকাঠির নলছিটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ কবির খান বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বিএনপিসহ ২ প্রার্থীর ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে শনিবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন শেষ হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের ১৩টি কেন্দ্রে বিরতিহীন ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। ভোট কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষণীয়। মেয়র পদে ৪জন, কাউন্সিলর পদে ৪০জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৩জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোট শুরু হওয়ার পরই শহরের শংকরপাশা কেন্দ্র থেকে ছুড়িসহ আব্দুর রহমানসহ ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শনিবার ভোর থেকেই তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায়ার মধ্যেও সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম শুরু করার আগেই নারী ভোটাররা কেন্দ্র লাইন দিতে শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করছিলো। নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ খানের সরব উপস্থিতি থাকলেও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতিকে প্রার্থী মজিবর রহমান বাসা থেকেই বের হননি। স্বতন্ত্র সাবেক মেয়র মোবাইল প্রতিকের প্রার্থী মাসুদ খান ভোটটি দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতিকের প্রার্থী শাহজালাল হোসেন নিজ সেন্টারে ভেট দিলেও তাকে অন্য কোন সেন্টারে দেখা যায়নি। দুপুর ১২টা বাজলে এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়া, নৌকায় জোর করে প্রকাশ্যে সিল মারার অভিযোগে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতিকে মজিবর রহমান সাংবাদিকদের ফোন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা করেন। সাড়ে ১১টায় স্বতন্ত্র মোবাইল প্রতিকের প্রার্থী মাসুদ খান ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। রাত ৮ টায় জেলা রিটার্নিং অফিসার ওয়াহেদুজ্জামান মুন্সি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। এতে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ খান ১৪৫৬৪ ভোট পেয়ে বেসরকারী ফলাফলে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতিকে প্রার্থী মজিবর রহমান পেয়েছেন ৩৭৫ ভোট, স্বতন্ত্র মোবাইল প্রতিকের প্রার্থী মাসুদ খান পেয়েছেন ৩২৮ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতিকের প্রার্থী শাহজালাল হোসেন পেয়েছেন ৯২৪ ভোট। সংরক্ষিতমহিলা কাউন্সিলর পদে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডে খাদিজা পারভীন ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে দিলরুবা আক্তার ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে নুরুন্নাহার রুবিনা নির্বাচিত হয়েছেন। কাউন্সিলর পদে ১নং ওয়ার্ডে পলাশ তালুকদার, ২নং ওয়ার্ডে নুরে আলম, ৩নং ওয়ার্ডে রেজাউল চৌধুরী, ৪নং ওয়ার্ডে তাজুল ইসলাম দুলাল চৌধুরী, ৫নং ওয়ার্ডে মামুন মাহমুদ, ৬নং ওয়ার্ডে ফিরোজ আলম খান, ৭নং ওয়ার্ডে শহিদুল ইসলাম টিটু, ৮নং ওয়ার্ডে আল মামুন লাভলু ও ৯নং ওয়ার্ডে মানিক হোসেন। অপরদিকে মেহেন্দিগঞ্জে নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে ৫ম পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।

৩০ জানুয়ারী (শনিবার) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীন ভাবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটারগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সরেজমিনে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে ভোটারগণ নির্বিঘেœ উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ন পরিবেশে ভোট গ্রহন সম্পন্ন হওয়ায় ভোটারদের মাঝে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। ভোট গ্রহণের শুরুতে ৮নং ওয়ার্ডের টিটিডিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বেশ কয়েকবার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের তৎপরতায় ভোট গ্রহনে কোনো বিঘœ ঘটেনি।

একাধিক ভোটারের সাথে আলাপকালে জানান, অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভোট হওয়ায় কেন্দ্রে এসে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে তারা খুবই আনন্দিত। সর্বশেষ ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী টানা ৩য় বারের মত মেয়র পদে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব কামাল উদ্দিন খান (নৌকা) প্রতীকে ১০১৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম ইসলামী আন্দোলন মনোনীত (হাতপাখা) প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ২৪৪১ ভোট এবং বিএনপি মনোনীত (ধানের শীষ) প্রতীকের প্রার্থী জিয়াউদ্দিন সুজন পেয়েছেন ২৪২৮ ভোট। এছাড়া বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী কাউন্সিলর পদে বিজয়ী হয়েছেন ১নং চরহোগলা ওয়ার্ডে আবদুল মোতালেব জাহাঙ্গীর, ২নং সোনামুখি ওয়ার্ডে এস.এম শাহজাহান সোহেল মোল্লা, ৩নং অম্বিকাপুর ওয়ার্ডে সোয়েব হোসেন সোহরাব, ৪নং দূর্গাপুর ওয়ার্ডে মশিউর রহমান নাদিম, ৫নং কালিকাপুর ওয়ার্ডে সরদার সাইফুল ইসলাম, ৬নং খরকি ওয়ার্ডে সাইদুর রহমান মনির, ৭নং বদরপুর ওয়ার্ডে সাইফুল ইসলাম বেপারি, ৮নং বদরপুর-চুনাগোবিন্দপুর ওয়ার্ডে নুরুল হক জমাদ্দার, ৯নং চুনারচর ওয়ার্ডে আঃ রাজ্জাক মনির জমাদ্দার এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন ১,২,৩নং ওয়ার্ডে মিতা রানী, ৪,৫,৬নং ওয়ার্ডে রোকসানা বেগম, ৭,৮,৯নং ওয়ার্ডে বিউটি বেগম। তবে ভোট গননায় জালিয়াতির অভিযোগ এনে সংরক্ষিত মহিলা আসন ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দী তিনজন প্রার্থীর মধ্যে দুইজন ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ভোট পুনঃগননার জন্য রির্টানিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।

এদিকে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি পৌরসভা নির্বাচনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. গোলাম কবির। শনিবার (৩০ জানুয়ারি) জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউসুফ হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. গোলাম কবির (নৌকা) ৩ হাজার ৯৫২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাহমুদুর রহমান খান (মোবাইল ফোন) পেয়েছেন ৩ হাজার ১৪৪ ভোট। এছাড়াও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৯৭৪ ভোট, আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী শিশির কর্মকার (জগ) পেয়েছেন ৮৩৪ ভোট, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ (নারিকেল গাছ) পেয়েছেন ১ হাজার ৯৯৪ ভোট ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম এরশাদ (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৫১ ভোট। নির্বাচনে জয়ের পর মো. গোলাম কবির ভোটের পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি পৌরবাসীর কাছে দেওয়া ওয়াদা সঠিক ভাবে পালন করার চেষ্টা করবো। এ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৭ হাজার ৩২৫ জন ও মহিলা ভোটার রয়েছে ৭ হাজার ৫৯৬ জন। জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউসুফ হারুন আরও বলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অপরদিকে বরগুনা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন ‘জনতার মেয়র’ তকমা লাগানো বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ শাহাদাত হোসেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ পেয়েছেন নয় হাজার ২৯৭ ভোট। আর জগ প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ শাহাদাত হোসেন পেয়েছেন ছয় হাজার ৯০৩ ভোট। ফলে কামরুল আহসান মহারাজ দুই হাজার ৩৯৪ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারি ভাবে বরগুনা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড াও একই দিনে অনুষ্ঠিত বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভা নির্বাচনে তিন হাজার ৮৩৫ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন আকন। নৌকা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ছয় হাজার ৬৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুবুর রহমান খান মোবাইল ফোন প্রতীকে পেয়েছেন দুই হাজার ২৩২ ভোট। কোন প্রকার অভিযোগ আর অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই এ দুই পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করতে প্রতি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। এছাড়া প্রতি কেন্দ্রে মোতায়েন করা হয় সাতজন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ১০ জন আনসার সদস্য। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুটি পৌরসভাকেই ঢেকে ফেলা হয় নিরাপত্তার চাদরে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় নিয়োজিত ছিলেন র্যাব এবং বিজিবি সদস্যসহ পুলিশের অতিরিক্ত সদস্যরা। ভোট কেন্দ্র ব্যতীত দুটি পৌরসভাতেই তিনজন করে মোট ছয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দাযি ত্ব পালন করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতে।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার হাওলাদার বলেন, বরগুনার দুটি পৌরসভাতেই আমরা অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সফল হয়েছি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগও করেননি কোন প্রার্থী। নির্বাচনের মেয়র পদে দুটি পৌরসভার দুটিতেই বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। এরমধ্যে বরগুনা পৌরসভায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ এবং পাথরঘাটা পৌরসভা নির্বাচিত হয়েছেন আনোয়ার হোসেন আকন।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button