রাজনীতির সংবাদ

বরগুনায় চেয়ারম্যানের  বিরুদ্বে চাল আত্মসাতের অভিযোগ

বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনা সদর উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলেদের ভিজিএফ চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। জাটকা ইলিশ ধরা বন্ধের সময় জেলেদের জন্য দেয়া সরকারি ভিজিএফ চাল চেয়ারম্যান আত্মসাত করেছেন বলে বরগুনা জেলা প্রশাসকের কাছে ২৩এপ্রিল লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জেলেরা। জেলা প্রশাসক অভিযোগ তদন্ত করার জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, জাটকা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের জীবিকা নির্বাহের জন্য এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের এপ্রিল ১ হাজার ৪৭৫জন জেলেদের অনুকুলে ভিজিএফ চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়। ওই ইউনিয়নে প্রতি মাসে জেলেদেও নামে বরাদ্ধ হয় ৫৯মেট্রিক টন চাল। প্রতি মাসের তালিকা অনুযায়ী জেলেদের ৪০কেজি চাল দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু এপ্রিল মাসের বরাদ্ধকৃত অনেক জেলেদের টিপসহি জাল করে চাল উত্তোলন করা হয়েছে। জেলে তালিকায় যে সকল জেলেদের নাম রয়েছে তারা সবাই আবার চাল পায়নি।
বরগুনাসহ দেশের সকল উপকূলীয় এলাকার নদ- নদীতে ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে মাছ ধরার ওপর ১ নভেম্বর থেকে  ৩০ জুন পর্যন্ত টানা আট মাস জাটকা শিকার ,পরিবহন, বিক্রি ওপর  সরকার নিষেধাজ্ঞা চলে। জাটকা শিকার বন্ধকালীন সময় সরকারি খাদ্য সহায়তা হিসেবে  ভিজিএফের এই চাল বিতরণ করা হয়। নিষেধাজ্ঞা কালীন সময়  নদ-নদীতে কারেন্ট জাল, বেহুন্দি জাল, খুটা জাল ও মশারি দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। ফলে নিষেধাজ্ঞা কালীন সময় জেলেরা অন্য কোনো মাছ ও ধরতে না পারায় জেলেদের মাঝে এই সহায়তার চাল বিতরণ করা হয়।
উরবুনিয়া এলাকার জেলে হারুন আকন বলেন,এপ্রিল মাসে বরাদ্ধকৃত কোন চাল পাইনি। আর বিতরণের তালিকায় যে টিপসই রয়েছে তাতে আমি কোন টিপ সই দেয়নি।কে বা কাহারা দিয়েছে তা আমি জানিনা।এজন্য আমরা জেলেরা জেলা প্রশাসকের বরাবওে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
উরবুনিয়া এলাকার জেলে আবদুর রহমান বলেন,আমাদের বরাদ্ধকৃত কোন চাল পাইনি।মাষ্টাররোলে কোন টিপসই দেয়নি। কে বা কাহারা আমাদের স্বাক্ষর দিয়ে চাল উঠিয়ে নিয়েছে তা আমরা জানিনা।
উরবুনিয়া এলাকার জেলে মো.জুয়েল বলেন,আমার নামের চাল কে নিয়েছে তা আমি জানিনা। আর তাতে আমি স্বাক্ষরও দেইনি।
একই এলাকার জেলে আ:রব,শাহিন,আমির হোসেন,রাসেল শিকদার বলেন,আমরা তো চাল পাইনি। আবার আমাদেও নাম তালিকায় আছে কিনা তা জানতে গেলে জানানো হয় তোমাদেও নাম তালিকায় নেই। পওে আমরা খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি তালিকায় আমাদেও নাম আছে কিন্তু আমরা টিপসহি দিয়ে চাল নেইনি। কে বা কাহারা নিয়েছে আমরা জানিনা।
চাল বিতরনে অনিয়মের অভিযোগের বিষয় এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ সেলিম অস্বীকার করে বলেন,আমার এখানো কোনো অনিয়ম হয়নি। তার বিরুদ্বে একটি মহল ষড়যন্ত্র মুলক অভিযোগ দায়ের করেছে। তালিকা অনুসারে জেলেদের মাঝে মাসের ৪০ কেজি করে চাল বিতরন করেছি। তিনি আরও বলেন কোন জেলে তো আমার কাছে অভিযোগ করেনি।
জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন,জেলেদের চাল বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি।অভিযোগ তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য গত বছর করোনাকালে জেলেদের চাল আত্মসাত কওে চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ সেলিম বরখাস্ত হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button