বরিশাল বিভাগের সংবাদ

নসিমন এখন তিন নম্বর স্বামীর ঘরে

বাউফল প্রতিনিধি : আলোচিত পটুয়াখালীর বাউফলের এক চেয়ারম্যানের দ্বিতীয় স্ব্রী নসিমন এখন তিন নম্বর স্বামীর ঘর করছে। ইতিমধ্যে ঐ চেয়ারম্যানকে শালিশ বৈঠকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিশোরী বিয়ে করার অপরাধে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪ এর ৪ এর (ঘ) ধারার অপরাধের অভিযোগ এনে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

কেন তাকে চুড়ান্ত অপসারন করা হবে না তা ১০ কার্য দিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে নসিমনের তৃতীয় স্বামীর ভাই আল ইমরান শাহীন চেয়ারম্যান সহ ৭ জন আসামী করে পটুয়াখালী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিষ্ট্রেড আদালতে সি আর মামলা (২৫৭/২০২১) দায়ের করেন।

জানা গেছে, এ বছরের ১৮ মে নসিমনের নানা নানুর মধ্যস্থতায় উপজেলার তাতেরকাঠী গ্রামের ফারুক আকনের ছেলে মোঃ সোহেল‘র সাথে দু লক্ষ টাকা দেনমোহরে তার প্রথম বিয়ে হয়। বিয়ের অল্পদিনের মাথায় নসিমন সোহেলকে তালাক প্রদান করে এবং তার প্রেমিক রমজানের সাথে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় ২৪ জুন শালিশ বৈঠকে নসিমনের বাবা সহ অভিভাকরা রমজানের সাথে বিয়ে না দেয়ার সিদ্বান্ত নেয়। এক পর্যায়ে শাহীন চেয়ারম্যান নসিমনকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলে নসিমন সহ পারিবারিক সিদ্বান্তে ঐ দিনই চেয়ারম্যানের সাথে নসিমনের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। রমজান প্রেমিকা নসিমনের বিয়ের খবর পেয়ে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে এবং বাউফল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করে সুস্থ্য হয়।

২৫ জুন নসিমন চেয়ারম্যানকে তালাক প্রদান করে ২৬ জুন কনকদিয়া ম্যারেজ রেজিষ্টারের মাধ্যমে প্রেমিক রমজানের সাথে তৃতীয় বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নসিমন তার প্রেমিক ও তৃতীয় স্বামী রমজান সহ নসিমনের বাবার বাড়ি অবস্থান করছে।

এ বিষয়ে নসিমন তিন বিয়ের কথা স্বীকার করে বলেন, তার বিয়ের বয়স হয়েছে, সে রমজানকে ভাল বেসেছে , তাকে পেয়েছে এবং তার সাথেই থাকবে। চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার বলেন, আমি প্রথম স্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে বয়স সম্পর্কে মেয়ের বাবার স্বীকারোক্তি ও ২০১১ সালে সাবেক চেয়ারম্যান হিরোন সাহেবের সময়কার জন্মনিবন্ধন সনদ দেখে তালাকপ্রাপ্তা নসিমনকে বিয়ে করেছি।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় মান্যবর হাইকোর্ট রুল জারী করেছে এবং পিবিআইকে তদন্তভার দেয়া হয়েছে, তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নসিমনের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের নজরদারী রয়েছে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button