বরিশাল জেলার সংবাদ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ১০ ঘন্টা পর শান্ত

হামলাকারীদের বিচারের আশ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষার্থীদের উপর শ্রমিকদের হামলার ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) অবশেষ শান্ত হলো। বুধবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসসংলগ্ন ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় বাসে আগুন, ভাংচুরসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অস্থিরতা ছড়িয়ে পরে।

শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসিকে ৩ দফা দাবি তুলে দিলে তা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকেও সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে। যে কারণে এ রুটে দক্ষিণাঞ্চলের শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। অবশেষে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দায়ী শ্রমিকদের বিচারসহ ৩ দফা দাবি পুরনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীরা। ফলে বুধবার বিকাল ৫টা থেকে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

জানা গেছে, বুধবার রাত ১টার দিকে মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিপনের নেতৃত্বে মানিক ও মামুন তার দলবল নিয়ে রুপাতলী হাউজিংয়ের আবাসিক এলাকার ১৯, ২২ ও ২৩ নং রোডে অবস্থিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেসের সামনে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে ধারালো চাপাতি, রামদা, রোড তিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষার্থীকে বেধরক মারধর করে গুরুতর আহত করে। তারা ভোররাতে শেবাচিম মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগে ভর্তি হয়েছে।

এ খবর মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আতংক দেখা দেয়। শিক্ষার্থীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক ইটপাটকেল ছিটিয়ে অবরোধ করে রাখে। বুধবার সকাল ৭টা থেকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে জরো হয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে রাখে। এতে শত শত যানবাহন মহাসড়কের দুই পাশে আটকা পড়েছে। তীব্র যানজটের কারণে সাধারণ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভিসি প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন এর সাথে বৈঠক করে। এসময় তারা ৩টি দাবি যথাক্রমে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা, এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা এবং অনাবাসিক সকল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করা। বৈঠককালে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরিয়াল বডির ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের দাবির বিপরীতে ভিসি প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিনের আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে ফের মহাসড়ক আটকে অবরোধ করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে কুয়াকাটা এক্সপ্রেস নামে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ভাংচুর করা হয় আরও দুটি বাস। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপরও দুপুর নাগাদ অব্যাহত ছিল মহাসড়ক অবরোধ।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভিসি প্রফেসর ড. মো: ছাদেকুল আরেফিন বিকেলে মহাসড়কে এসে শিক্ষার্থীদের আলোচনার প্রস্তাব দেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ভিসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘স্যার শ্রমিকরা রুপাতলীতে মোড়ে মোড়ে লাঠি, অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের নিরাপত্তা নেই।’

ভিসি ড. ছাদেকুল এ সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার শতভাগ আশ্বাস দিলে দুপুর ৩টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ভিসির কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষার্থীদের তুলে ধরা দাবিগুলো নিয়ে ফের আলোচনা হয়।

দ্বিতীয় বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ভিসি প্রফেসর ড. মো: ছাদেকুল আরেফিন, সহকারী প্রক্টর সুপ্রভাত হালদার, শিক্ষক সমিতির সভাপতি আরিফ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) উপ কমিশনার (দক্ষিণ) মোকতার হোসেন।

বৈঠক শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান তমাল বলেন, তারা ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এ সময়ে মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আন্দোলন স্থগিত করেছেন।

বিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোকতার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, দ্বিতীয় বৈঠকে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল হামলাকারী বাস শ্রমিকদের গ্রেফতার এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা।

হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনাসহ শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পূরণে পুলিশ সচেষ্ট থাকবে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো: ছাদেকুল আরেফিন বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। যার প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন। ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি এখন শান্ত। যানবাহন চলাচলও স্বাভাকি হয়েছে বলে জানান ভিসি ড. ছাদেকুল আরেফিন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিআরটিসি বাস শ্রমিক কর্তৃক বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে রুপাতলী এলাকায় লাঞ্চিত ও মারধরের জেরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। ওই ঘটনার জেরে বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্নিকটে মেসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বেধরক মারধর করে বাস শ্রমিকরা।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button