বরিশাল বিভাগের সংবাদ

কলাপাড়ায় বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রার্দুভাব

জান্নাত আরা মিলি, কলাপাড়া : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় নভেল করোনাভাইরাস এর দ্বিতীয় ঢেউ এর সাথে যোগ হয়েছে মহামারী ডায়রিয়া ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ট হয় পরেছে। গত এক সপ্তাহ ১০৭ জন মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিদিন ২৩ জন ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি হচ্ছে কলাপাড়া হাসপাতালে।

আবার অনেক রোগী বহিঃবিভাগ থেকে চিকিৎসা নিছেন। এরমধ্যে অধিকাংশ শিশু ও বৃদ্ধ।কলাপাড়া হাসপাতালে স্যালাইন সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন বাজারের ফার্মসিগুলোতে স্যালাইন সংকট রয়েছে। কোম্পানীর কাছে অর্ডার করে পাওয়া যাচ্ছে না বলে ওষুধ ব্যবসায়ীরা জানান। সবচেয়ে বেশি বেকায়দা রয়েছে শ্রমজীবি মানুষ ও শিশু এবং বৃদ্ধরা । বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকার কারনে তাপ মাত্রা বেড়ে চলায় এমনঅবস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

কলাপাড়া হাসপাতাল ও কুয়াকাটা তুলাতুলি হাসপাতালে খবর নিয়ে জানা গেছে, প্রচন্ড গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা নানান ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে জ্বর, সর্দি, গলা ব্যাথা, নিউমানিয়া,পাতলা পায়খানা,আমাশায় আক্রান্ত হচ্ছে পানি শুন্যতার কারনে। চিকিৎসকরা বিশেষ করে লেবুর শরবত ডাবের পানি,স্যালাইন খেতে বলছেন রোগীদের। তাহলে শরীরের পানি শুন্যতা হলেও তা পুরন হবে। এতে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে।

পারভীন বেগম জানান,গত দু’ই দিন ধর প্রচন্ড বমি ও পায়খানার কারনে হাসপাতালে এসে ভর্তি হলাম। এখন পর্যন্ত বমি বন্ধ হচ্ছে না। জয়নাল মিয়া জানান, হাসপাতাল ভর্তি হলাম তারা সেলাইন দেয় তাতে আমার কিছুই হয় না বাহিরের ফার্মসিগুলোতে গিয়ে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স সায়মা আক্তার তুলি জানান, উপজেলা হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী রাঙ্গাবালী এবং আমতলী ও তালতালী উপজেলার কিছু সংখ্যক রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে। এ কারন রোগীর চাপ বেশি রয়েছে।

রোজ গড়ে ২৩জন ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে ১০৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা আবহাওয়া অফিসের মো.আ. হালিম মিয়া জানান, বর্তমানে তাপ মাত্রা অনেক বেশি। তবে এক সপ্তাহর মধ্যে বৃষ্টিপাতের কোন সম্ভাবনা নাই। গত শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।

এ ব্যাপার কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ম হাওলাদার জানান, কিছু এলাকায় এখনো বিশুদ্ধ পানির অভাব রয়েছে। ফলে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব অনেক বেশি। তবে হাসপাতলে কোন সেলাইন সংকট নেই।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button