রাজনীতির সংবাদ

আওয়ামী লীগকে জমি  দান করেও শেষ রক্ষা হলোনা তার

মো. সুজন মোল্লা, বানারীপাড়া : ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলার অন্তর্গত গাভা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বালিঘোনা গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের মৃত হোছেন আলী হাওলাদার জীবদ্ধশায় নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগকে সু-সংগঠিত করেছিলেন নিঃস্বার্থভাবে। আজ থেকে প্রায় ৩৫/৪০ বছর আগে সে সময় ওই এলাকায় তার পরিবারসহ হাতে গোনা কয়েকটি ঘরের সদস্যরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলো।

ওই এলাকায় যখন সর্বহারাদের একক খবরদারী তখন হোসেন আলী হাওলাদারসহ মাত্র কয়েক ব্যক্তি আওয়ামী লীগের পতাকাতলে আসতে সাধারণ মানুষকে আহবান জানাতেন। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রথম সারির একজন নেতা ছিলেন।
পিতার কাছ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্র বয়সেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজেকে সম্পৃক্ত করেণ হোছেন আলীর ছেলে মো. আলমগীর হোসেন হাওলাদার।
ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতি করে এখন তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। ওয়ার্ডে দলীয় অফিস করতে যখন জমি দরকার হয় তখন এলাকার কেউই তা দিতে চাচ্ছিলনা। তখন গুরঘাটখোলা বাজার ঘেষা দামী সম্পত্তি থেকে ২ শতাংশ জমি আলমগীর হোসেন দান করেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অফিস করার জন্য।
যে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত রাখতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম শুধু দিয়েই গেলেন। দলের সুনামের জন্য নিজ অর্থে রাস্তা,ঘাট,পুল ও কালভার্ট মেরামত করতেন সেই দলের কাউকেই ২১ জুন ইউপি সদস্য নির্বাচনে পাশে পাননি আলমগীর হোসেন।  ৭নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আপেল মার্কার প্রার্থী কবির হোসেনের  পক্ষে কাজ করেছেন পুরো আওয়ামী লীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগ।
আলমগীর হোসেন এমন অভিযোগ করে উপরোক্ত কথা গুলো বলেন।
তিনি আরও বলেন এবারের ২১জুন ২০২১ নির্বাচনে এলাকার সাধারণ মানুষের কথায় অংশ গ্রহণ করেছিলাম। তবে নিজ দলের নেতারা তার বৈদ্যুতিক পাখায় সাপোর্ট না দিয়ে একই ওয়ার্ডের বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কে বিজয়ী করতে নানা ভাবে ষড়যন্ত্র করে এবং অবশেষে তারাই সফল হয়।
তিনি আরো বলেন, এখনকার আওয়ামী লীগের অনেক নেতারাই দলকে সামনে রেখে পিছনে টাকা ইনকামে ব্যাস্ত  রয়েছে।
তেমনটাই নির্বাচনের দিন তিনি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছেন কিভাবে হেরে যাচ্ছেন। আর সেটা চোখে দেখা ছাড়া তার কোন উপায় ও ছিলনা তার।  কেননা ওয়ার্ডের পুরো আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে কাজ করছিলেন।
আলমগীর হোসেনের বড় ছেলে লোকমান হাওলাদার এর প্রতিবাদ করলে উল্টো সে নিজ দলের নেতাদের রোষানলে পরে মারধরের শিকার হন। এখন সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ভয়ে নিজ বাড়িতে আসতে পারছেন না। কেননা ওই ইউনিয়নের একজন প্রভাবশালী নীতি-নির্ধারণী লোকমানকে বাড়ি ফিরতে নিষেধ করেছেন বলো আলমগীর হোসেন জানান।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button