প্রধান সংবাদ

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন লঞ্চ যাত্রীরা

কয়েক বছরে লঞ্চে অর্ধডজন হত্যাকান্ড

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা-বরিশাল নৌপথে বিলাসবহুল প্রায় ২১টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে। এ অঞ্চলের জনপ্রিয় এ নৌ-সার্ভিসে তাই নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে মন্ত্রী, আমলা, জনপ্রতিনিধিরাও অহরহ যাতায়াত করেন। কিন্তু হাজার হাজার এই যাত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত সশস্ত্র আনসার বাহিনীর এখন আর অস্তিত্বই নেই। জানা গেছে, সশস্ত্র নিরাপত্তা রক্ষী না থাকায় গত কয়েক বছরে লঞ্চে অর্ধডজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। লঞ্চের মাস্টার ড্রাইভাররা বলেছেন, তারা নিজেরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সংশ্লিষ্টরা এজন্য লঞ্চ মালিক এবং বিআইডব্লিউটিএকে দায়ী করেছেন।

বরিশাল সদর নৌ-থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ মামুন জানান, গতকাল মঙ্গলবার ভোরে সুন্দরবন-১১ লঞ্চের ছাদে শামীম তালুকদার (২৫) নামে এক যাত্রী খুন হন। লঞ্চের ছাদ খোলা থাকায় রাতের কোনো এক সময় এ হত্যাকা- ঘটেছে। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর এমভি পারাবত-১১ নামক লঞ্চের স্টাফ কেবিন থেকে এক নারী যাত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গত কয়েক বছরে এভাবে একের পর এক হত্যাকা- ঘটছে এ রুটের লঞ্চে।

এমভি সুন্দরবন-১০ লঞ্চের মাস্টার মজিবর রহমান বলেন, ঢাকা-বরিশাল রুটের কোনো লঞ্চেই আনসার নেই। যদিও সরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যেক লঞ্চে ছয়জন করে সশস্ত্র আনসার থাকার কথা ছিল। মালিকরা এর বিপরীতে দুই থেকে তিনজন সিকিউরিটি গার্ডের জন্য নিজস্ব স্টাফ রাখছেন। কিন্তু তারা যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ডিউটি করে না। লঞ্চে কোনোভাবেই ছাদ খোলা রাখা যাবে না। অথচ মঙ্গলবারই একটি লঞ্চের ছাদে একজনের প্রাণ গেল। তিনি বলেন, আমিও তো নিরাপদ না। আমাকেও যে কোনো সময় জিম্মি করতে পারে। কোনো যাত্রীরই নিরাপত্তা নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই সশস্ত্র আনসার বাহিনী দরকার বলে তিনি মনে করেন।

অভ্যন্তরীণ লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সুন্দরবন-১১ লঞ্চের স্বত্বাধিকারী সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, এখন আর কোনো লঞ্চেই আনসার নেই। সরকারি নির্দেশনাও নেই। তারা সিসি ক্যামেরায় নজরদারি রাখছেন। তাছাড়া বেতন দিয়ে আনসার রাখা সম্ভবও না। তিনি বলেন, তারা মালিক সমিতি এবং বিআইডব্লিউটিএ বসে লঞ্চ যাত্রীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিতের ব্যবস্থা করবেন। তারা সুন্দবন-১১ লঞ্চের ছাদ কেন খোলা ছিল এ প্রসঙ্গে রিন্টু বলেন, সব লঞ্চের ছাদেই তো যাত্রী দেখা যায়।

ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চের রোটেশন প্রথা বাতিলে গঠিত কমিটির সদস্য কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে লঞ্চে কেন সশস্ত্র আনসার রাখা হচ্ছে না। এখানে প্রতিদিন কত ভিআইপি ব্যক্তি যাতায়াত করেন। যে কোনো বড় দুর্ঘটনার দায়িত্ব কে নেবে।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিআইডব্লিটিএ’র বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, লঞ্চের ছাদে যাত্রী ওঠা নিষেধ। কীভাবে সুন্দরবন-১১ লঞ্চের ছাদে যাত্রী উঠে খুনের শিকার হয়েছেন তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, আনসার নিয়োগ দিলে বেতন দিতে হয়। যে কারণে মালিকরা সশস্ত্র আনসার রাখেন না। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ছয়জন সশস্ত্র আনসার রাখতে হবে। কিন্তু আনসার না থাকায় হত্যাকা- ঘটছে। এ অবস্থায় লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে করোনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button