বরিশাল জেলার সংবাদ

সাওদা হত্যা: প্রেমিক রাসেলের দণ্ড কমায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী সাওদা বেগম হত্যা মামলার আসামি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাসেল মাতুব্বরের মৃত্যুদন্ডের সাজা কমিয়ে সোমবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রেমের সম্পর্ক অবনতি হওয়ায় ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সহপাঠী রাসেল হত্যা করেছিল সাওদাকে।

তৎকালীন শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি ও বর্তমান শিক্ষক সমিতির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মো. আরিফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, হত্যার শিকার আর হত্যাকান্ডে জড়িত দুজনই আমাদের শিক্ষার্থী। তাই এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। সাওদাকে বাঁচানোর জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম, এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে উন্নত চিকিৎসারর জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠিয়েছি কিন্তু সাওদা আমাদের মাঝে ফেরেনি। এই হত্যাকান্ড এখনো আমাদের পীড়া দেয়। হাইকোর্ট যেহেতু রায় দিয়েছে তাই এই রায়ের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। সাওদার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্র বর্তমানে মাস্টার্স মো: আলীম সালেহী বলেন, ওই সময়ে সবোর্চ্চ সাস্তি মৃত্যু দন্ড চেয়ে আন্দোলন করেছি। কিবন্তু একজন খুনীর রায় কমানোটা আমাদের জন্য সস্তিদায়ক নয়। তবে আদালতের রায়ের প্রতি আমাদের শ্রোদ্ধা রয়েছে।

মার্কেটিং বিভাগের হাবিবুর রহমান বলেন, সাওদা আমাদের সহপাঠী ছিলেন। তার করুন মৃত্যু মেনে নিতে পারিনি। তবে রাসেলও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আদালত যে রায় দিয়েছে তার বিষয়ে কোন মন্তব্য নেই। এমন একটি হত্যাকান্ড সকলের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকবে।

এব্যপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো: সাদেকুল আরেফিন ববি ছাত্রী সাওদা হত্যা মামলায় হাইকোর্টের আদেশের উপর মন্তব্য করতে চাননি। কারন তিনি ওই সময়ে ছিলেন না। তাছাড়া এ বিষয়ে তার তেমন কিছু জানাও নেই। তবে তিনি সাওদার পরিবারের প্রতি সমবেদন জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত রাসেল মাতুব্বর ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে এ হত্যাকান্ডের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন। তার বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটায়। একই উপজেলার আব্দুল রাজ্জাকের মেয়ে নিহত সাওদা (২২) বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মামলা সুত্রে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্ক রাখতে রাজি না হওয়ায় ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস সংলগ্ন নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড রোডে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাওদাকে কুপিয়ে হত্যা করে রাসেল।

এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর রাতে সাওদার মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৫ সালের ১ জুন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সাওদা হত্যা মামলায় রাসেলকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছিলেন বরিশালের আদালত।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button