আন্তর্জাতিক সংবাদ

রণক্ষেত্রে পরিণত মার্কিন আইনসভা কংগ্রেসের ভবন

অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে দেশটির আইনসভা কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটল ভবন। বিক্ষোভ ঠেকাতে ফাঁকা গুলি এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এক পর্যায়ে অবরুদ্ধ করা হয় ভবন। এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন চারজন।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন-প্রণেতারা যখন নভেম্বরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করার জন্য অধিবেশনে বসেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শত শত সমর্থক তখন আমেরিকার আইনসভা কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটল-এ ঢুকে পড়ে।

স্থানীয় সময় বুধবার দুপুরের পরই আমেরিকার রাজধানী শহরে এই নাটকীয় দৃশ্যে দেখা যায়। শত শত বিক্ষোভকারী ভবনটিতে ঢুকে পড়ছে আর পুলিশ কংগ্রেস সদস্যদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিতে থাকে। খবর বিবিসি বাংলার

কয়েক ঘণ্টা ভবন কার্যত দখল করে রাখার পর বিক্ষোভকারীরা ধীরে ধীরে ক্যাপিটল প্রাঙ্গণ ছেড়ে বাইরে চলে যেতে থাকে।

সিএনএন ও বিবিসি জানায়, ক্যাপিটল ভবনের চারপাশে জড়ো হন কয়েক হাজার ট্রাম্প সমর্থক। তাদের মধ্যে ছিল মারমুখী ভাব। প্রথমে তারা ওই ভবনে ঢোকার চেষ্টা চালান। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি চালায় এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। ক্যাপিটল ভবন থেকে ট্রাম্প-সমর্থকদের হটিয়ে দিতে পুলিশকে অন্তত তিন ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালাতে হয়। পুলিশ ভবনটি অবরুদ্ধ করে রাখে।

ক্যাপিটল ভবনে সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির মেট্রোপলিটান পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন ধরনের অন্তত পাঁচটি বন্দুক জব্দ করেছে। আহত কয়েকজন পুলিশ অফিসারকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে

এ ঘটনার পর যৌথ অধিবেশন স্থগিত হয়ে যায়। তবে রাতে আবার তা শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। ট্রাম্প একটি ভিডিও বার্তায় তার সমর্থকদের বাড়ি ফিরে যেতে অনুরোধ করেছেন।

ওয়াশিংটনে মার্কিন কংগ্রেসের ক্যাপিটল ভবনে এর আগে ১৮১৪ সালে হামলা হয়েছিল। ক্যাপিটল ভবনে হামলার সেই ঘটনার ২০৬ বছর পর বুধবার ফের এমন হামলার ঘটনা ঘটল।

ক্যাপিটল হিস্ট্রি সোসাইটির বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে যুদ্ধের সময় ১৮১৪ সালে ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালিয়েছিল ব্রিটিশরা। খবর বিবিসির

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে ব্রিটিশ বাহিনীর এ যুদ্ধ ‘ওয়ার অব ১৮১২’ নামে পরিচিতি। এ যুদ্ধ শুরু হয় ১৮১২ সালের জুন মাসে, আর শেষ হয় ১৮১৫ সালে।

১৮১৪ সালের আগস্টে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ভাইস অ্যাডমিরাল স্যার আলেকজান্ডার কুকবার্ন এবং মেজর জেনারেল রবার্ট রসের নেতৃত্বে ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভবনটি তখন নির্মাণাধীন ছিল।

১৮১৪ সালে ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালিয়েছিল ব্রিটিশরা-বিবিসি

সে সময় যুক্তরাজ্যের উপনিবেশের অধীন ছিল কানাডা। আর আপার কানাডার রাজধানী ইয়র্কে মার্কিন হামলা ও অগ্নিসংযোগের প্রতিশোধ নিতেই ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ বাহিনী এ হামলা চালায়।

শুধু ক্যাপিটল ভবন নয়, হোয়াইট হাউসসহ ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন জায়গায় এ হামলা চালায় ব্রিটিশ বাহিনী।

বুধবার কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে যখন নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে স্বীকৃতি দেওয়ার কাজ চলছিল, তখনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থকেরা হামলা চালায়। বিক্ষোভ ঠেকাতে ফাঁকা গুলি এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এক পর্যায়ে অবরুদ্ধ করা হয় ভবন। এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন চারজন।

হামলার পর ক্যাপিটল হিস্ট্রি সোসাইটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ক্যাপিটল শুধু একটি ভবন নয়, এটি মার্কিন গণতন্ত্রের প্রতিমূর্তি। এখানে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর আমাদের সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্রের মৌলিক স্মারক।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button