বরিশাল জেলার সংবাদ

শেডে দেয়া হচ্ছে ডাইরিয়া আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। তারা ভীর করছেন বরিশালে ডায়রিয়া চিকিৎসার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডের বেড, মেঝে, বারান্দা ছাড়িয়ে রোগীরা ঠাই নিয়েছেন মূল ভবনের বাইরে খোলা স্থানে, এমনকি গাছতলায়ও। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতারও যথেস্ট অভাব রয়েছে। যদিও সাধ্য মতো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেস্টার কথা বলেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে পর্যাপ্ত জায়গা এবং লোকবল স্বল্পতার কারনে রোগীদের প্রত্যাশা পূরন করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আরপিও ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে দিয়ে দেখা গেছে, ডায়রিয়া ওয়ার্ড ছাড়িয়ে রোগীর স্থান হয়েছে হাসপাতালের বারান্দায়। এছাড়া রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় মূল ভবনের বাইরে বাঁশ দিয়ে শেড করে রোগীদের চিকিৎসার দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসাধীন রোগীরা জানান, হাসপাতালে জায়গা না পাওয়ায় বাইরে শেডের মধ্যে চিকিৎসানিচ্ছেন তারা। কিন্তু ঠিকভাবে দেয়া হয় না আইভি স্যালাইন সহ প্রয়োজনীয় ওষুধ। স্লিপ ধরিয়ে দেয়া হয় বাইরে থেকে স্যালাইন সহ ওষুধ আনার জন্য। ওয়ার্ড এবং ওয়ার্ডের বাইরে সর্বত্র নোংরা পরিবেশ। জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের নার্সিং ইনচার্জ আয়শা আক্তার জানান, সরকারিভাবে যে ওষুধ এবং স্যালাইন বরাদ্দ আছে সেগুলো রোগীদের দেয়া হচ্ছে। লোকবল স্বল্পতা থাকলেও সাধ্যমতো ওয়ার্ড পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেস্টা করছেন তারা।

জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, জেনারেল হাসপাতালে মাত্র ৪ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ড। এর মধ্যে পুরুষ ওয়ার্ডে দুটি শয্যা এবং ২টি শয্যা মহিলা ওয়ার্ডে। সেখানে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন ষাট জন। ৪ জনের জায়গায় ষাট জনের অধিক রোগী থাকলে কিছু সংকট তো হবেই। লোকবল এবং স্থান স্বল্পতার কারনে প্রত্যাশা অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন গড়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০জন ডায়রিয়া রোগী। গত মার্চে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭৫১ জন ডায়রিয়া রোগী। চলতি ১লা এপ্রিল থেকে বুধবার পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন ৬০২জন রোগী। এছাড়া বৃহস্পতিবার নতুন ভর্তি হওয়া ২৮ জনসহ জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৬৫ জন রোগী।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button