বরিশাল জেলার সংবাদ

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরছে দক্ষিনের মানুষ

কাজী পলাশ : ঈদ-উল আযহার ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে দক্ষিনাঞ্চলের মানুষ। বিলাসবহুল লঞ্চগুলো শুক্রবার যাত্রী বোঝাই করে বরিশাল নদী বন্দর ত্যাগ করেছে। প্রত্যেকটি লঞ্চেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ডেকের যাত্রীদের ঠাসাঠাসি করে লঞ্চগুলো পরিচালিত হয়েছে। প্রত্যেকবছর যাত্রী চাপ বিবেচনায় প্রায় ২৪টি লঞ্চ যাত্রী পরিবহন করলেও এবার তার নেমে এসেছে তিন ভাগের এক ভাগে।
শুক্রবার বরিশাল হতে ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে যাবে মোট নিয়মিত ৬ ও স্পেশাল ৯ টি মোট ১৫ টি লঞ্চ। নিয়মিত ৬টি হচ্ছে গ্রিনলাইন -০৩, অ্যাডভেঞ্চার- ৯, কুয়াকাটা-২, পারাবত- ১১, সুন্দরবন -১১, সুরভী-০৯ এবং স্পেশাল ৯ টি হচ্ছে পারাবত -০৯, মনামী, অ্যাডভেঞ্চার-০১,সুরভী-০৮,সপ্তবর্ণা- ১০,কীর্তনখোলা-১০, রেডসান-০৫, রাজহংস- ১০, ডায়মন্ড -০৩। যাত্রী সাধারনের চলাচলের সুবিধার্থে আজ ০৯ টি লঞ্চ স্পেসাল সার্ভিসের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
বরিশাল নদী বন্দরে গিয়ে দেখা গেচে টার্মিনালে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে যাত্রীদের নানান ভাবে সচেতনার কথা বলা হলেও লঞ্চের ভিতরে ডেকে কোনো ভাবেই মানা হচ্ছে না। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা মাস্ক ব্যবহার ছাড়াই যাত্রীরা যে যার মতো চলাফেরা করছেন। কেবলমাত্র কেবিনের যাত্রীরাই কিছুটা স্বস্তিতে যেতে পারছেন লঞ্চযোগে। একই অবস্থা বিআইডব্লিউটিসি’র নৌ-যানের ক্ষেত্রে। জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্য যাওয়ার কথা বলেন তারা। অপরদিকে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বাস্থ্য বিধি মানার সকল ব্যবস্থা লঞ্চে থাকলেও যাত্রীরা তাদের কথা শুনছে না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীবাহি লঞ্চে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেস্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা।
করোনাকালীন সময়ে নিরানন্দ ঈদে গ্রামে আসেননি অনেকেই। যারা এসেছেন তারা ছুটি শেষে শুক্রবার গন্তব্যে ফিরতে শুরু করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার নৌ পথে রাজধানীমুখি যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। শুক্রবার বরিশাল নদী বন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ১৫ টি যাত্রীবাহি নৌযান। আজ শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে ঢাকামুখি যাত্রীদের ¯্রােত। শুক্রবার ঢাকাগামী লঞ্চে সর্বাধিক ভীর লক্ষকরা গেছে। এবার উপচে পড়া ভীর না থাকলেও ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া হচ্ছে প্রতিটি লঞ্চে। গত দুই দিন ধরে বরিশাল নদী বন্দর থেকে টই টুম্বুর যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় বিলাসবহুল লঞ্চগুলো। যাত্রীদের অনেকের ছিলো না কোন মাস্ক কিংবা শারীরিক দূরত্বের বালাই। লঞ্চগুলোতেও সুরক্ষা সামগ্রী কিংবা জীবানুনাশক ব্যবস্থা রয়েছে নামমাত্র। বাধ্য হয়েই এই পরিস্থিতিতে গন্তব্যে যাওয়ার কথা বলেছেন কর্মজীবী যাত্রীরা। সচেতন না হলে করোনা পরিস্থিতি থেকে বাঁচা যাবে না বলে জানান তারা। করোনাকালেও অতিরিক্ত ভাড়ায় আদায়ের অভিযোগ রয়েছে যাত্রীদের। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথা অস্বীকার করেছেন লঞ্চের কর্মকর্তারা। লঞ্চে স্বাস্থ্য বিধি মানার ব্যবস্থা থাকলেও যাত্রীরা কোন কথাই শুনছেন না অভিযোগ কর্তৃপক্ষের।
একই রুটের এমভি কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চ কোম্পানীর কর্মকর্তা মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, তারা লঞ্চের মাইকে ঘোষনা দিয়ে যাত্রীদের মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ করছেন। অনেকে অনুরোধ শুনছেন, অনেকে শুনছেন না। অথচ শুধুমাত্র নির্দেশনা দিয়েই দায়িত্ব এড়াচ্ছে বরিশাল নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা সরকার মিঠু জানান, লঞ্চ যাত্রীদের বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার এবং লঞ্চে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবস্থা সহ যাত্রীদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে মাস্টার, সুপারভাইজার ও মালিকদের অনুরোধ করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে তিনি জানান। ###

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button