বরিশাল বিভাগের সংবাদ

হঠাৎ করে কলাপাড়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ

উত্তম কুমার হাওলাদার : হঠাৎ করে সমুদ্র উপকূলীয় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আংশকাজনক হারে বাড়ছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগ বৃদ্ধ ও শিশু। গত এক সপ্তাহে শতাধিক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

এছাড়া অনেকেই বর্হিবিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। ডায়রিয়া রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেখা দিয়েছে বেড সঙ্কট। বাধ্য হয়ে অনেক রোগীদের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শয্যা না থাকায় অনেকেই ঠাঁই হয়েছে মেঝেতে। ভ্যাপসা গরমের কারণে বৈদ্যুতিক পাখার বাতাসেও স্বস্তি মিলছেনা রোগীদের। স্বজনরা অনবরত হাত পাখা নাড়িয়ে বাতাস করছেন। আবার অনেক রোগীর স্বজনরা বেড না পেয়ে কর্মরত নার্স ও আয়াদের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন।

এদিকে এ উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে শিশু ও বৃদ্ধরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তার স্থানীয় পর্যায় চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

কলাপাড়া হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৮ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ৭৭ জন ডায়রিয়া জনিত কারণে চিকিৎসা নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কায়েদ (১১মাস), ফাহিমা (১১ মাস), আবদুল্লা(২) সহ নয় জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতলে ভর্তি হয়েছে। এদিকে রোগী বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও সেবিকাসহ সংশ্লিষ্টরা। তবে মার্চের মাঝামাঝি থেকে এ রোগের প্রকোপ বাড়তে শুরু করে।

ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু তানহা’র পিতা মমিন গাজী বলেন, সোমবার রাতে তার কন্যা শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরের দিন মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিয়ে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখন পর্যন্ত বেড পাই নাই। বাধ্য হয়ে তীব্র গরম সহ্য করে মেঝে শুইয়ে তার কন্যার চিকিৎসা করাচ্ছেন। ডায়রিয়া আক্রান্ত অপর শিশু রাইসুল ইসলামের পিতা মিজানুর রহমান বলেন, বুধবার তার সন্তান অসুস্থতা দেখা দিলে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসেন। অনেক কষ্টে একদিন পর বেড পেয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স পিয়ার বেগম বলেন, পার্শ্ববর্তী আমতলী ও তালতালী উপজেলার কিছু সংখ্যক রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে। এ কারনে রোগীর চাপ বেশি থাকে। এছাড়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ৮১ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। আমরাও প্রতিনিয়ত রোগীদের সেবা দিচ্ছি।
অপর সিনিয়র স্টাফ নার্স বিউটি বিশ্বাস বলেন, রোগীদের সাথে আসা অতিরিক্ত ভিজিটর হাসপাতলে অবস্থান করায় রোগী সেবায় ব্যাঘাত ঘটে। এছাড়া হাসপাতাল অধিক নোংরা হয়ে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার চিন্মময় হাওলাাদার জনান, শয্যা স্বল্পতা থাকলেও আমরা রোগীদের উন্নত সেবা প্রদানের সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। আর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী যারা এসেছে তাদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ঔষধের সরবারহ রয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button