বরিশাল বিভাগের সংবাদ

রুম্মান হত্যা : ৯ দিনে গ্রেফতার হয়নি কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল পটুয়াখালী মহাসড়কের ঝালকাঠি নলছিটির দপদপিয়ায় পূর্ব জমির কেনা-বেচার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে খুন হয় অনিসুর রহমান রুমান। রুমান দপদপিয়া এলাকার সত্তার বিশ্বাসের ছেলে ও দপদপিয়া টোল প্লাজার ক্যাশিয়ার। গত ৩ ডিসেম্বর খুনের পরদিন রুমানের চাচাতো ভাই মিঠু বিশ্বাস বাদী হয়ে আল মামুনসহ নামধারী ২২ জনের বিরুদ্ধে নলছিটি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। তবে এই মামলায় পুলিশ ৯ দিনেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মামলায় উল্লেখ করা হয় অভিযুক্তদের সাথে রুমানের ঘটনার দিন বিকেল ৪টায় কথাকাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। এরই জের ধরে আল মামুন তার হাতে থাকা গাছ কাটার দা’দিয়ে রুমানকে জবাই করে হত্যা করে। এছাড়া মামলার অন্যান্য আসামীরা ঘটনার সময় রুমানকে জাপটে ধরে থাকে।

মামলার এজাহারে ঘটনার দিন বিকেল ৪টায় রুমানের সাথে আল মামুনের কথাকাটাকাটির কথা উল্লেখ থাকলেও রুমানের মা হেলেনা বেগম জানান এ সময় আমার ছেলে আমার পাশে ঘুমিয়ে ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় মামলার প্রধান স্বাক্ষী আজিজ বিশ্বাসের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম আমার ছেলেকে মোবাইলে কল করে ডেকে নেয়। এর কিছুক্ষন পরেই আমি জানতে পারি আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। রুমানের মা আরো জানান, রুমান হত্যাকারী সন্দেহে যাদের আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে তাদের সাথে রুমান কিংবা আমাদের কোন ধরনের পূর্ব বিরোধ কিংবা শত্রুতা নাই। আমি আমার ছেলে হত্যার আসল হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। রুমানের মায়ের এমন কথায় মামলার বাদী মিঠু তার দায়েরকৃত মামলায় বক্তব্য সম্পূর্ণ উল্টো। এ নিয়ে রুমান হত্যা মামলাটি প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করেছেন অনেকে। এছাড়া আরো জানা যায়, মিঠু খান বাদী হয়ে আল মামুনসহ যে সকল আসামী অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছে তাদের সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। কিছুদিন পূর্বে আল মামুন তার পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বায়না চুক্তি করে। বিষয়টি জানতে পেরে মামলার বাদী এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু ও মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত মিঠু খান আল মামুনের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে। ওই দাবীকৃত চাঁদা না দেয়ায় মিঠু ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। রুমানের সাথে আল মামুন ও তার পরিবারের ভালো সম্পর্ক বিদ্যমান। আল মামুনের ভাগিনা মামলার ৩নং আসামী জিহাদের সাথে রুমানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মিঠু খান বিভিন্ন সময় আল মামুনের উপর হামলা পরিকল্পনা করলে রুমান এসব কথা তাকে বলে দিত।

অভিযুক্ত আসামি আল মামুনের বোন আফরোজা আক্তার লাকী জানান, ঘটনার দিন আল মামুনের বাড়িতে বেড়াতে আসে মেজো বোনের ছেলে ভাগিনা রিয়াদ। বিকেল ৫টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে রিয়াদ জিরো পয়েন্ট এলাকায় ঘুরতে যায়। এ সময় রিয়াদের মোটরসাইকেল থামিয়ে মিঠু বিশ্বাস, মুন্না বিশ্বাস, আজিজ বিশ্বাস, আকিব বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা তাকে ব্যাপক মারধর করে। ঘটনার পর পরই মিঠু বিশ্বাসসহ হামলাকারীরা আল মামুনের উপর পুনরায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে। এ সময় রুমানকেও তাদের সাথে যাবার জন্য আজিজ বিশ্বাসের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়। কিন্তু রুমান যেতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয় মিঠু বিশ্বাস। একপর্যায়ে মিঠু বিশ্বাস দা’দিয়ে রুমানকে কুপিয়ে হত্যা করে।

এদিকে মামলার প্রধান স্বাক্ষী আজিজ বিশ্বাসের স্ত্রী নুরুন্নাহার বলেন, এজাহারভূক্ত ৪নং আসামী বাপ্পী রুমানকে জবাই করেছে। (এর ভিডিও প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে)। ওই ভিডিওতে দেখা যায় রুমানকে হত্যাকারী হিসেবে ৪/৫ জনের সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করলেও এজাহারে ২২জনকে আসামী করা হয়েছে। কিন্তু মামলার এজাহারে আল মামুন রুমানকে জবাই করে হত্যা করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সকল বিষয়ে মামলার বাদী মিঠু বিশ্বাস বলেন, আমরা কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নই। আমরা এই মামলা সুষ্টু বিচার ও আসামীদের ফাঁসি দাবী করি। এ বিষয়ে ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল) প্রশান্ত কুমার দে জানান, সত্য মিথ্যা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। কে আসল খুনি। মামলাটি তদন্তাধিন রয়েছে। ##

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button