প্রধান সংবাদ

বাড়ি ফিরলো বাকেরগঞ্জের সেই ৪ শিশু

স্টাফ রিপোর্টার : উচ্চ আদালতের আদেশের পর বরিশালের বাকেরগঞ্জে ৬ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার ৪ নাবালক শিশু আসামীকে স্ব স্ব বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন। শুক্রবার সকাল ৭ টা ৫০ মিনিটে এসি মাইক্রোবাস যোগে ওই ৪ শিশুকে বাকেরগঞ্জের রুনশী গ্রামে নিয়ে আসেন প্রশাসন। এসময় সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের আবির্ভাব ঘটে। গাড়ি থেকে নামার পর শিশুদের বুকের মাঝে টেনে নিয়ে স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পরেন।
স্বজনদের হাতে ওই ৪ শিশুকে বুঝিয়ে দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ, বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামসহ প্রশাসনের স্থানীয় কর্মকর্তারা। এর আগে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহষ্পতিবার দিবাগত রাতে বরিশালের শিশু আদালত ওই ৪ শিশুকে জামিন দেয়। এরপর রাতেই বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের সহকারি পরিচালককে তাদের মুক্তির জন্য মেইলে বার্তা প্রেরণ করেন। যে বার্তা অনুযায়ী বৃহষ্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এসি মাইক্রোবাস যোগে ৪ শিশুকে নিয়ে বরিশালের বাকেরগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। শুক্রবার সকালে শিশুদের হাতে পেয়ে স্বজনরা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। পাশাপাশি মিথ্যে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান। স্বজনরা জানান, পূর্ব শত্রæতার জের ধরে এই শিশুদের ফাঁসানো হয়েছে।
চার শিশু হলো, সাইদুল ইসলাম, সোলাইমান ইসলাম তামিম, হাফিজুল ইসলাম লাবিব, শাওন হাওলাদার। এদের সকলের বয়সই ছয় থেকে নয় বছর।
এক শিশুর বাবা বেলøাল হোসেন ও অপর এক শিশুর বাবা শাহিন হাওলাদার বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে তাদের সন্তানকে ফাঁসানো হয়েছে। তারা মিথ্যা মামলা থেকে রেহায় দেয়ার জন্য আদালতের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে ধর্ষনের শিকার শিশু চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থাকার কারণে তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় বলেন, আমরা উচ্চ আদালতের নির্দেশনা পালন করেছি। আর গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন হবে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের রুনসী গ্রামে খেলার ছলে শিশু কন্যা ধর্ষনের অভিযোগে গত ৬ অক্টোবর বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের পর ৪ শিশু আসামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৭ অক্টোবর তাদের আদালতে প্রেরন করলে আদালতের বিচারক তাদের যশোরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরনের নির্দেশ দেন। ৯ অক্টোবর উচ্চ আদালত স্বপ্রনোদিত হয়ে রাত ১০টায় তাদের জামিনের জন্য সংশিøষ্ট আদালতকে নির্দেশ দেন এবং শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে এসি মাইক্রোবাসে করে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হ¯Íান্তরের নির্দেশ দেন। গনমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারের পর বিচারপতি মোঃ মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আসার পর এমন আদেশ দেয়া হয়। এছাড়াও হাইকোর্ট ওই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে আগামী ১১ অক্টোবর তলব করেন। একই সঙ্গে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ওই ৪ শিশুকে তাদের অভিভাবকসহ ওই দিন আদালতে হাজির থাকতে বলেছেন। পাশাপাশি বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে একই দিন সাড়ে ১০টার মধ্যে ভিকটিম শিশুর ধর্ষণ সংক্রান্ত মেডিকেল রিপোর্ট হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
চার শিশুকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ প্রদানকারী বরিশাল বাকেরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকেও ওইদিন হাজির হতে বলেছে হাইকোর্ট। এরপরই হাইকোর্টের স্পেশাল অফিসার মোঃ সাইফুর রহমান উচ্চ আদালতের ওই আদেশ বরিশালের শিশু আদালতের বিচারক, জেলা প্রশাসক, বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সংশিøষ্ট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও বাকেরগঞ্জ থানার ওসিকে টেলিফোনে অবগত করেন। ###

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button