রাজনীতির সংবাদ

নেতৃত্ব পরিবর্তনে বরিশাল নগর বিএনপিতে গ্রুপিং

সরোয়ার-কামাল অনুসারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে দলে একাধিক গ্রুপিং মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নগর সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার অনুসারীদের বলয়ে চলমান কমিটিকে মেয়াদ উত্তীর্ণ দাবি করে এর পরিবর্তন চান সাবেক ও বর্তমান নেতারা। নানা কৌশলে তারা নগর বিএনপির কর্তৃত্ব ঘায়েল করতে তৎপর। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় বিএনপি দলীয় সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের নেতৃত্বে কেন্দ্রে মহানগর বিএনপির একটি কমিটির প্রস্তাবনা পাঠানো। অপরদিকে সাবেক ছাত্রনেতাদের ব্যানারে একটি অংশ নগর বিএনপির শীর্ষ পদ দখলে দফায় দফায় চালাচ্ছেন বৈঠক। এ নিয়ে বরিশালে সরোয়ার ও কামাল অনুসারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষও দেখা দিয়েছে।

বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামালকে সভাপতি ও নগর বিএনপির বর্তমান সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে চলতি মাসে কেন্দ্রে মহানগর বিএনপির একটি কমিটির নতুন প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর কাছে ওই প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র দাবি করেছেন। বিএনপি নেতা মিন্টু বরিশাল বিএনপিকে পুনর্গঠনের দায়িত্বে আছেন। এ ঘটনা চাউর হওয়ায়

বিএনপি নেতা সরোয়ার ও কামাল অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ প্রসঙ্গে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু বলেন, ২০১৩ সালে নগর বিএনপির কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়। অনেক আগেই এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন নতুন কমিটি হোক এটা সবাই চান। কেননা অনেকে মারা গেছেন, আবার অনেকের পদ নেই। দলের বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। রাগ-ক্ষোভ মারাত্মকভাবেই দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, সাবেক মেয়র কামাল কেন্দ্রে নগর বিএনপির কমিটি সংবলিত প্রস্তাব পাঠিয়েছে কি না তা জানা নেই। তবে কেউ তার নাম প্রস্তাব করলে প্রতিবাদ করবেন না। সাবেক ছাত্রনেতাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওরা বসে সভা-বৈঠক করছে, ওই পর্যন্তই। এসব আলোর মুখ দেখবে কি না সেটি নিয়ে তার সংশয় রয়েছে।’

জানা গেছে, বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নেতৃত্বে ছিলেন এমন নেতাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে সরোয়ারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা চলাচ্ছেন। গত ১৩ আগস্ট তারা ফের বৈঠক করেন। যদিও গুঞ্জন রয়েছে, সাবেক ছাত্রনেতাদের ঐক্যে ফাটল ধরায় বেশ ক’জন ওই বৈঠকে ছিলেন না।

বৈঠকে উপস্থিত বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান মঞ্জু গত ১৩ আগস্ট ফেসবুকে উল্লেখ করেন ‘বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপিকে গতিশীল করতে সাবেক ছাত্রনেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।’

জানতে চাইলে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আ ন ম সাইফুল আহসান আজিম বলেন, সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে তারা এক ধরনের গেম খেলছেন। তিনি বলেন, দল লোক পায় না, তাই কামাল ভাইয়ের মতো বহিষ্কৃৃত লোককে টেনে আনার চেষ্টা করছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আতায়ে রাব্বি বলেন, সাবেক ছাত্রনেতারা বিএনপিকে গতিশীল করতে একতাবদ্ধভাবে থাকতে চান। নগর বিএনপিতে হুট করে কাউকে বসিয়ে দেওয়া হোক তা মানবেন না তারা।

তবে বরিশাল মহানগর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন বলেন, নগর বিএনপি তার অবস্থানেই চলছে। যারা দলের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন না তারা কেন দূরে থেকে তৎপরতা চালাচ্ছেন? সাবেক মেয়র কামালের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। তিনি নগর বিএনপির কমিটির প্রস্তাবনা পাঠাতে পারেন না।

এ ব্যাপারে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে কমিটি প্রস্তাব করার কোনো সুযোগই নেই। তার সঙ্গে সাবেক মেয়র কামালের এ বিষয়ে কথাও হয়নি। যদি কাউন্সিল হয় তবে তখন এটি সম্ভব। তারা কাউন্সিলের অপেক্ষায় আছেন। কাউন্সিলেই নগর বিএনপির পরিবর্তন আসবে। তিনি বলেন, মহানগর নিয়ে কেন্দ্রে আলোচনা হয়নি, দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কীভাবে প্রস্তাবনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিএনপি নেতা সরোয়ার বলেন, সাবেক ছাত্রনেতাদের একটি অংশ কেবল আলোচনাই করে। তবে তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা কাজ করে না। দলের জন্য তো কাজও করতে হবে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button